বলিউডবিনোদন

অপরাধের দায়ে জেল খাটতে হয়েছে যেসব বলিউড তারকাদের

কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান। এ অভিনেতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যোধপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বর্তমানে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন এ অভিনেতা। জামিন না পাওয়া পর্যন্ত এখানে থাকতে হবে তাকে।

তবে সালমান ছাড়াও এমন অনেক বলিউড অভিনয়শিল্পী রয়েছেন যারা কারাভোগ করেছেন। এমন দশজন বলিউড তারকাকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

সালমান খান :

২০০৬ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল সালমানকে। কয়েকদিন জেলেও ছিলেন এ অভিনেতা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান। একই মামলায় আবারো পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে। ৫ এপ্রিল থেকে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন এ অভিনেতা।

সঞ্জয় দত্ত :

‘খলনায়ক’খ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। ১৯৯৩ সালে বেআইনি অস্ত্র ও অসংগতিপূর্ণ কার্যকলাপের জন্য অভিযুক্ত হন সঞ্জয়। পরবর্তী সময়ে কারাভোগ করতে হয়েছে তাকে। ৯এমএম পিস্তল ও একে-৪৭ অস্ত্র রাখার দায়ে ১৮ মাস কারাভোগ করেন সঞ্জয়। এখানেই শেষ নয় এই মামলায় ২০০৭ সালে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। তখন এক মাস পাঁচদিন কারাগারে ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার সাজার পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ বছর করে। পুনের ইয়েরওয়াড়া কারাগারে বাকি সাজা ভোগ করে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান সঞ্জয়।

ফারদিন খান :

বলিউড অভিনেতা ফারদিন খান। এখন পর্দায় তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। ২০০১ সালে মাদক কেনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। এ নিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন এ অভিনেতা। মাদক নিরাময় চিকিৎসা শেষে পাঁচদিন পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

জন আব্রাহাম :

‘জিসম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন জন আব্রাহাম। ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ সিনেমার জন্য দর্শক-সমালোচকদের কাছে থেকে বেশ প্রশংসাও পান তিনি। ২০০৬ সালে মোটর বাইক ড্রাইভ করার সময় দুই পথচারীকে আহত করেছিলেন তিনি। ১৫ দিন জেলে থাকতে হয়েছিল এ অভিনেতাকে। ওই দুই পথচারীর বড় কোনো ক্ষতি না হওয়ায় আদালত জনকে জামিন দেন।

মনিকা বেদি :

নব্বই দশকের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী মনিকা বেদি। তবে সমালোচনার মুখে পড়েন যখন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের সঙ্গে তার সম্পর্কের খবর প্রকাশ পায়। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলায় বেশ কিছুদিন জেলে কাটাতে হয়েছে এ অভিনেত্রীকে। বিগ বস রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে আবারো প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

শাইনি আহুজা :

গ্যাংস্টার সিনেমাখ্যাত অভিনেতা শাইনি আহুজা। অভিষেকের পর তার সিনেমা বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এ অভিনেতা। মুম্বাই আর্থার রোড কারাগারে তিন মাস কাটাতে হয় তাকে। এরপর মামলার বাদী এফআইআর তুলে নিলে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

সুরাজ পাঞ্চোলি :

আদিত্য পাঞ্চোলি ও জারিনা ওয়াভাব দম্পতির ছেলে সুরাজ পাঞ্চোলি। ২০১৩ সালে অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুর পর আলোচনায় আসেন তিনি। জানা যায়, এ অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সুরাজ। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ২৩ দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে। ২০১৫ সালে হিরো সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার।

রাজপাল যাদব :

বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব। ২০১০ সালে পরিচালক হিসেবে তার প্রথম সিনেমার জন্য এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও টাকা পরিশোধ করেননি। এরপর ওই ব্যবসায়ী মামলা করেন। ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি হয়। আদালতে যাদব যে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন তার তথ্য মিথ্যা ছিল এবং তার স্ত্রীর সাক্ষ্যও ভুয়া ছিল। এরপর আদালত এ অপরাধে যাদবকে ১০ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ বিষয়ে আপিল করলে হাইকোর্টের একটি ডিভিশনাল বেঞ্চ তার আপিল বাতিল করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর চারদিন কারাভোগ করেন এ অভিনেতা।

অঙ্কিত তিওয়ারি :

‘আশিকি-টু’খ্যাত সংগীতশিল্পী অঙ্কিত তিওয়ারি। ২০১৫ সালের ৮ মে জেলে গিয়েছিলেন তিনি। তাও অন্য কিছু নয় তার এক বান্ধবীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে কারাভোগ করেছিলেন।

সুত্রঃ- আরএম-২৯/০৬/০৪ (বিনোদন ডেস্ক)

Show More
BLW Artcl

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close