ছোটো গল্পজীবনধারাটলিউডবিনোদনসোসিয়ালি ভাইরাল

‘নেপথ্যে নায়ক’ যখন টলিউডের কালারিস্ট ডট ডি

আজ আমি যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে রেড চিলিস এন্টার্টেনমেন্টের অবদান অনেকখানি। বলাবাহুল্য এই ব্র্যান্ড নেমটা আমার কেরিয়ারে অনেকটা ভ্যালু অ্যাড করেছে।

জীবনে চলতে ফিরতে অনেক মানুষ থাকে যারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু বিধির নিয়মে তারা থেকে যান অন্তরালে। কিছু সংখক মানুষ ছাড়া তাঁর ভূমিকাটা কেউ দেখতে পাননা। আজ আমরা ‘নেপথ্যে নায়ক’এ সেই সব অন্তরালে থাকা মানুষদেরই গল্প শোনাবো আপনাদের। আমাদের আজকের অতিথি কালারিস্ট ডট ডি

আপনি তো ছবির কালারিস্ট ?
-হ্যাঁ আমি ছবির কালারিস্ট। লোকেরা তাই বলে। ফিল্মের ক্রেডিটেও সেটাই লেখা থাকে।

এই প্রফেশন বেছে নেওয়ার কারন কী ?
-অ্যাকচুয়ালি প্রথম দিকে আমি ভিএফএক্সের আর্টিস্ট ছিলাম। তখন কালার কালেকশন নোটটা আমায় বারবার আকর্ষণ করতো। তখন বেশ মজা পেতাম। সেখান থেকেই কালারের এই ন্যাকটা আসে। তারপরে ধীরে ধীরে সেটাই প্রফেশনে পরিণত হয়।

এই প্রফেশনে আসার জন্য পরিবার থেকে কেমন সাপোর্ট পেয়েছেন ?
-আসলে আমার পরিবারের মধ্যে কেউই এই মিডিয়া বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত নেই। আমার পরিবার থেকে আমিই প্রথম এই প্রফেশনে এসেছি। আমি ভীষন লাকী যে আমি এই প্রফেশনে আসার জন্য বাড়ী থেকে পুরোপুরি সাপোর্ট পেয়েছি এবং এখনো পাই। যা হয়তো অনেকেই পায়না।

আপনার জীবনে এই প্রফেশনের প্রভাব কেমন ভাবে পরেছে ?
– কালার নিয়ে খেলতে আমার ভালো লাগে। আমার কাছে কালার একটি ইমোশন, প্রতিটা কালারের ইমোশনাল আইডেন্টিফিকেশন আছে। প্রতিটা লাইটের যেমন ইমোশনাল পার্ট আছে তেমনি প্রতিটা কালারের ইমোশনাল পার্ট আছে। সেই দিক থেকে কালার জিনিসটাকে নিয়ে আমি নিজের মতো ভাবতে ভালোবাসি। একজন ডিওপি যে ইমেজকে তুলে আনেন আর আমরা কালারিস্টরা ডিরেক্টরের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিউটিসেশনের কাজ করি। আর আমার কাছে পৃথিবীর সবথেকে পছন্দের কাজের মধ্যে একটি হল কালার।

ডট ডি এইরকম নামের কারন কী ?
-হ্যাঁ এই প্রশ্নটা অনেকেই আমায় জিজ্ঞাসা করে(হাসি)। আমার পুরো নাম সৌরভ দাস। আগে ক্রেডিটে লিখতাম সৌরভ ফুলস্টপ ডি (SOURAV.D)। সেখান থেকেই আমাকে অনেকে ডট ডি বলে ডাকতে শুরু করে। আর সেটাই পরিচিত হয়ে যায় সবার কাছে।

শোনা যায় আপনি অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জির সাথে বেশী কাজ করেন ? 
– হ্যাঁ আমি পরমব্রত চ্যাটার্জির সাথে বেশী কাজ করি। ওনার ছবিতে বেশীরভাগ কালারিস্ট হিসাবে কাজ করেছি।

কখনো ইচ্ছা হয়নি ছবিতে অভিনয় করার ?
-হ্যাঁ সেই ইচ্ছা তো ছিলই। তবে এবারে সেই স্বপ্নটা পূরণ হলো। পরমের(পরমব্রত চ্যাটার্জি) একটা আপকামিং ফিল্ম আসছে সেটাতে অভিনয় করলাম। যার বহু অংশ জুরে আমি রয়েছি। স্বপ্ন ছিলো পূরণ হয়েছে এবারে বাকীটা দর্শকরা বলবে।

আপনি তো ‘রা-ওয়ান’ ছবিতেও কাজ করেছেন।
– হ্যাঁ ‘রা-ওয়ান’ ছবিতে ট্যাকনিকাল টিম মেম্বার হিসাবে কাজ করেছি।

রেড চিলিস এন্টার্টেনমেন্টের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ?
– এক কথায় অনবদ্য। এই কোম্পানীতে প্রতিটা আর্টিস্টকে একদম ফিল্টার করে এমপ্লয়মেন্ট দেয়। যেটি প্রতিটি আর্টিস্টের কাছে পাওয়া বড় ব্যাপার। আজ আমি যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে রেড চিলিস এন্টার্টেনমেন্টের অবদান অনেকখানি। বলাবাহুল্য এই ব্র্যান্ড নেমটা আমার কেরিয়ারে অনেকটা ভ্যালু অ্যাড করেছে।

আপনার কাছে আপনার নিজের করা এখনো পর্যন্ত সেরা কাজ বাছতে বললে কোনটি ?
– আসলে একজন কালারিস্ট হিসাবে আমি প্রতিটা ছবিতে চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার। তার মধ্যেও কিছু পছন্দের কিছু ছবি হয়ে যায়। যেগুলো মনে দাগ কেটে যায়। সেরকম অর্থে বলতে গেলে ‘সমান্তরাল’ ছবির কাজটি আমার নিজের কাছে ভালো লেগেছে। আমরা চর্ম চোখে যা দেখি এই ছবিতে সেইসবই ফুটে উঠেছে। এই একটা কারনেই এটাকেই আমার কাছে আমার করা সেরা কাজ বলবো। বাকীটাতো দর্শকরা বলবে।

নতুন কোন ছবিতে কাজ করলেন ?

-হ্যাঁ কৌশিক করে ‘পর্ণমোচী’ এবং কৌস্তভ ভট্টাচার্যের ‘হয়তো মানুষ নয়’ ছবিতে কাজ করলাম।

এমন কেউ আছেন যার সাথে আপনি কাজ করার স্বপ্ন দেখেন ?
-ব্যাক্তিগতভাবে সেরকম কোনো মানুষ নেই যার সাথে আমি কাজ করার স্বপ্ন দেখি। তবে সেইদিক থেকে ধরতে গেলে ‘দ্যা রেভন্যান্ট’ নামে একটি ছবি যেটি 2016 নাগাদ এসেছিল। এইরকম একটি ছবি আমি আমার হাতে আঁকতে চাই।

আপনার ছোট থেকে বড়ো হয়ে ওঠা কোলকাতাতেই ?
– আমার বাড়ী সাঁতারাগাছিতে। সেখানকার স্কুলেই পড়াশুনা করা আর সেখানেই বড়ো হয়ে ওঠা।

সৌরভ দাস থেকে ডট ডি হয়ে ওঠার জার্নি কেমন ছিলো ?
– এই জার্নির কথা বলতে গেলে, আমার কাজটা খুব একটা সহজ ছিলনা। আরো সকলের মতোই আমিও স্ট্রাগল করতে শুরু করি। আমার কেরিয়ারের প্রথম দিকটা মুম্বাইতে কেটেছিল। প্রথমে কেরিয়ার শুরু হয় জুনিয়র ভিএফএক্স(VFX) কম্পোজিটর দিয়ে। ধীরে ধীরে কালারিস্ট হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তবে মানুষ হিসাবে আমি একই রকম আছি। শুধু একটা নাম থেকে দুটো নাম হয়ে গেছে।

এমন কোনো ছবি আছে যা আপনাকে মোটিভেট করেছে ?
-সেরকম ভাবে তেমন কোনো ছবি নেই। তবে এক্ষেত্রে বলতে গেলে ‘দ্যা রেভন্যান্ট’ ছবির লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর চরিত্রটি আমার পার্সোনাল লাইফে, কর্মক্ষেত্রে আমায় মোটিভেট করে।

জীবনে কতবার প্রেম এসেছে ?
– (মৃদু হাসি) প্রেমর কথা বলতে গেলে জীবনে অনেকবারই প্রেম এসেছে। আসলে আমি একটু কাজের দিকেই বেশী সময় দিতে পছন্দ করি। তবে আমি রিয়ালাইস করছি এই ব্যাপারটা হয়তো আমার জন্য নয়।

এই মুহূর্তে টালিগঞ্জের দুজন প্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীর নাম জিগেস করলে কাদের কথা বলবেন ?
-অনেকর অভিনয়ই ভালো লাগে। তবে তার মধ্যে অভিনেতা হিসাবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রীদের মধ্যে অবশ্যই জয়া আহসান এবং প্রজাপতি বিস্কুট ছবির ইষা সাহা।

লাইফের এমন কোনো স্বপ্ন যা পূরণ হয়নি পরবর্তিকালে পূরণ করতে চান ?
– হ্যাঁ যে স্বপ্নটা আছে সেটা বেশ মজার। ছোটবেলায় ভাবতাম বড়ো হয়ে ট্যাক্সি চালাবো। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা যেমন সারাদিন এইপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেরায় আমিও তেমন ঘুরবো। তবে ইচ্ছা আছে জীবনের কোনো একদিন সারাদিন ট্যাক্সি চালিয়ে ঘুরবো। আর যে যেখানে যেতে চাইবে নিয়ে যাবো মিটারে যা ভাড়া হবে তাই দেবে।

জীবনের কিছু স্বীকারোক্তি ?
– দৈনন্দিন জীবনে, কাজের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় অনেক ভুল করে এসেছি। আমি চাই যে ভবিষৎ এ এই ভুলগুলো আর যাতে না হয়। ফিউচার আরো ভালো কাজ সবাইকে উপহার দিতে চাই।

Rapid ফায়ারঃ

প্রিয় অভিনেতা
উত্তম কুমার না সৌমিত্র চ্যাটার্জ
– দুজনকেই

প্রিয় গোয়েন্দা
ফেলুদা না ব্যোমকেশ
-ব্যোমকেশ

প্রিয় নায়িকা
স্বস্তিকা, মিমি, কোয়েল, শ্রাবন্তী
-মিমি

ছুটির দিনে
ঘুরতে যাওয়া নাকী ঘরে পরিবারের সাথে সময় কাটানো
-সেটা মুডের উপর ডিপেন্ড করে

প্রিয় জায়গা ?
-রাজস্থানের জয়সলমীর আর কেরলের মান্নার।

কথাবার্তা শেষ করে এগিয়ে চললাম। আবার আমরা ফিরে আসবো কোনো একদিন আবার একজন নায়কের গল্প নিয়ে

Tags
Show More
BLW Artcl

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close